👁 344 Views

স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের নির্দেশ ট্রাম্পের

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক :নেটো জোটে প্রতিরক্ষা খাতে খরচ না করা এবং ইরান যুদ্ধে সহযোগিতা না করায় স্পেনের ওপর চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্পেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

তুরস্কের আঙ্কারায় নেটো জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “আমি স্পেনের সঙ্গে কোনও কথা বলিনি। স্পেনকে নিয়ে আর কোনও আশা নেই। আমরা স্পেনের সঙ্গে আর কোনও বাণিজ্য করতে চাই না।”

এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের দিকে তাকিয়ে বলেন, “আমি চাই আপনি স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য এখনই বন্ধ করে দেন।

তবে ট্রাম্পের আকস্মিক এই নির্দেশকে পাত্তা দিচ্ছে না স্পেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ট্রাম্পের এই হুমকিকে গুরুত্ব না দিয়ে একে ‘স্বাভাবিক বিষয়’ হিসেবেই দেখছে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের দেশের চমৎকার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে যা থেকে দুই দেশই উপকৃত হচ্ছে। এই সম্পর্ক পরিবর্তন করার কোনও অভিপ্রায় আমাদের নেই।”

তাছাড়া, স্পেন জোর দিয়ে এও বলেছে যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একটি ট্রেড ইউনিয়ন। ফলে ইইউ এর কোনও সদস্যদেশকেই বাণিজ্যর বিষয়ে বাকীদের থেকে আলাদা করে দেখা যায় না।

স্পেন এ বছরের শুরুর দিকেও ট্রাম্পের একইরকম হুমকির জবাব একইভাবেই দিয়েছিল। সে সময় স্পেনই ছিল একমাত্র নেটো সদস্যদেশ যারা প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় জিডিপি’র ৫ শতাংশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

ট্রাম্পের বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্নের হুমকির জবাবে স্পেন বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্র মাদ্রিদের সঙ্গে এককভাবে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারেনা। কারণ, এই সম্পর্ক সামগ্রিকভাবে ইইউ’র সঙ্গেও আছে।

স্পেনের সঙ্গে ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধের সূত্রপাত হয় গত বছরের নেটো শীর্ষ সম্মেলন থেকে। নেটোর নতুন লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে সদস্য দেশগুলোকে তাদের জিডিপির পাঁচ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে খরচ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের চাপে।

নেটোর সব সদস্য দেশ এ প্রস্তাবে রাজি হলেও একমাত্র স্পেন তা মানতে অস্বীকৃতি জানায়। মাদ্রিদের এই অবস্থানে ক্ষুব্ধ হয় ওয়াশিংটন। এরপর থেকেই স্পেনের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প।

আর এখন স্পেনের সঙ্গে ট্রাম্পের সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধের নির্দেশ বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। কারণ, স্পেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য। আর ইইউ নিয়ম অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর বাণিজ্য নীতি এককভাবে ইইউ নির্ধারণ করে থাকে।

নেটোর প্রতিরক্ষা খাতে খরচ বাড়ানোর বিষয়টি না মানা ছাড়াও ট্রাম্পের সঙ্গে স্পেনের দূরত্বের আরেকটি বড় কারণ ছিল ইরান যুদ্ধ। ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে স্পেনের কোনও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে মাদ্রিদ। স্পেনের এই অবস্থানের কারণে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকে।

স্পেনকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘‘নেটো জোটে স্পেন ভয়াবহ অংশীদার। তারা কোনো কিছুতে অংশ নেয় না, অর্থও দেয় না। স্পেনের সঙ্গে আমি কোনও সম্পর্ক রাখতে চাই না। স্পেনের সঙ্গে সব বাণিজ্য এবং সফর বন্ধ করুন। দেখা যাক, তারা কতটা বৈরি মনোভাব নিয়ে থাকে যখন ফোন করে বলবে ‘স্যার, দয়া করে আমরা আপনাদের সঙ্গে বাণিজ্য করতে চাই’।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *