কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভাল শুরু শুক্রবার।।  হাজার হাজার পর্যটকের ভীড়ে উৎসব মুখর কুয়াকাটা।। 

মিলন কর্মকার রাজু, কলাপাড়া ( পটুয়াখালী।।

পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে দুই দিন ব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল। আর এ কার্নিভালকে ঘিরে উৎসব মুখর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত।  দীর্ঘ নয় বছর পর কুয়াকাটায় এ কার্নিভালের বিভিন্ন ইভেন্ট দেখতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। ৫০ ভাগ ছাড় ঘোষণা করায় ইতিমধ্যে তিন শতাধিক হোটেল মোটেল বুকিং হয়ে গেছে। আর এ পর্যটকদের ভীড় সামলাতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। কুয়াকাটাসহ উপকূলীয় দ্বীপ গুলো নিয়ে মালয়েশিয়ার আদলে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে এ কার্নিভালের আয়োজন জানালেন বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান।  আর স্থানীয় সংসদ সদস্য বলেন, এ উৎসব শেষে পর্যটন অর্থনীতির নতুন করে গতি সঞ্চার ঘটবে।

কুয়াকাটার এ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য,  সমুদ্রের ঢেউয়ের খেলার পাশাপাশি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে সারাবছরই পর্যটকদের সমাগম থাকে। এ পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কুয়াকাটায় হাজার হাজার কোটি বিনিয়োগ করে ব্যবসায়ীরা নির্মাণ করেছে অত্যাধুনিক হোটেল, মোটেল। পর্যটন ব্যবসার বিস্তৃত হয়েছে কুয়াকাটা জিড়ো পয়েন্ট থেকে ১৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। কিন্তু সৈকত কেন্দ্রীক উন্নয়ন ও পর্যটকদের সুবিধা কিংবা বিনোদনে ব্যাপক পিছিয়ে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ এ পর্যটন কেন্দ্র।

সারা বিশ্বের কাছে কুয়াকাটাকে ব্রান্ডিং করতে কুয়াকাটায় আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে দুই দিনের পর্যটন কার্নিভাল। সকাল নয়টায় প্রধান অতিথি হিসেবে এ কার্নিভালের উদ্বোধন করবেন বেসামরিক বিমান  পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি।

কুয়াকাটার এ পর্যটন কার্নিভাল ও সরকারি ছুটিতে কুয়াকাটা সৈকতে এখন ঢল নেমেছে পর্যটকদের। সৈকতের জিড়ো পয়েন্ট থেকে পূর্ব দিকের গঙ্গামতি,  কাউয়ার চর,  পশ্চিমের লেম্বুরবন, তিন নদীর মোহনা এখন লোকারণ্য।  শুধু সৈকত নয়, সমুদ্রের বুকে জেগে ওঠা চর বিজয়ে অতিথি পাখি, লাল কাকড়া ও জেলে জীবনের সংগ্রাম দেখতে ১৫ কিলোমিটার সমুদ্র পাড়ি দিয়ে পর্যটকরা ভীড় করছে।

কুয়াকাটায় এ কার্নিভাল দেখতে আসা পর্যটক আরিসফা, শ্রাবন্তী, তিন্নি বলেন, পূজার ছুটির মধ্যে এ দুই দিনের উৎসব তাদের কাছে বাড়তি পাওনা।

তারা বলেন, এতো আয়োজন করা হয়েছে কিন্তু সৈকতের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা হতাশ। পাশাপাশি খাবার হোটেলগুলো ইচ্ছে মতো মূল্য রাখছে। মানও খুব খারাপ।

কুয়াকাটার হোটেল ও রেষ্টুরেন্ট মালিকরা বলেন, সব হোটেল রুমই বুকিং।  তবে কোন হোটেল ও রেষ্টুরেন্টের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ হলে তাদের বিরুদ্ধে সংগঠন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আর ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিনিয়োগকারীরা বলেন, নয় বছর পর কুয়াকাটায় এ কার্নিভাল ফিরে আসায় তারা খুশি।

দুই দিনের পর্যটন কার্নিভালে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলবে বিভিন্ন ইভেন্ট। ২৩ অক্টোবর সকাল ৯ টায় কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্টে বিচ ফুটবলের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পর্যটন কার্নিভালের আনুষ্ঠানিকতা। এছাড়াও থাকবে ফুড ফেস্টিভাল, বীচ ফুটবল, ঘুড়ি উৎসব, শিশুদের চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতা, পুঁথি পাঠের আসর,  রাখাইন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা,  বীচ ম্যারাথন, পিঠা উৎসব, সৈকত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বিচ ভলিবল, সেলিব্রেটি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহনে বিচ ক্রিকেট,  বাউল গানের আসর। এতে দেশের নামকরা শিল্পী,  অভিনেতা,  ক্রিকেটার ও  মডেলরা অংশ গ্রহণ করবে বলে আয়োজকরা জানান।

কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশের পরিদর্শক নাজমুল হাসান বলেন দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সৈকতেই তাদের নিরাপত্তা টহল শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সড়কে নিয়োজিত রয়েছে পুলিশ।

কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভাল উৎসব কে ঘিরে গোটা পৌর আলোকসজ্জার পাশাপাশি সড়কে পর্যটকদের নির্বিঘ্নে চলাচলে যান চলাচলে সীমিত করা হয়েছে জানালেন কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক  ইয়াসীন সাদিক।

আর বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, কুয়াকাটা ও  গভীর সমুদ্রে জেগে ওঠা বিভিন্ন দ্বীপকে নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ এ পর্যটন কেন্দ্রকে মালয়েশিয়ার আদলে পর্যটনে রূপ দিতে তাদের এ আয়োজন। এ কার্নিভালে শুধু দেশের নয়, বিভিন্ন দেশের পর্যটকরাও আসবে।

আর পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, তাদের সরকারের লক্ষ্য পর্যটন কেন্দ্রীক বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করা। এবারের কার্নিভাল সফল হলে কুয়াকাটায় দেশী বিদেশি পর্যটকদের সমাগম যেমন হবে তেমনি বিনিয়োগকারীরা আরও আগ্রহী হবে।

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন দুই দিনের এ পর্যটন কার্নিভালের বিভিন্ন ইভেন্ট দেখতে ও অংশ নিতে অনলাইনে   প্রায় এক লাখ রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *