ইব্রাহিম আলম সবুজ রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব পাঁচটি পরিবার। স্থানীয়দের সহযোগিতায় নতুন করে বসবাসের জন্য জমি মিললেও সেটি নিচু হওয়ায় ছয় মাসেও নির্মাণ করা যায়নি বসতঘর। জমি ভরাটের জন্য প্রয়োজনীয় মাটি না থাকায় পাশের তিস্তা নদী থেকে বালু এনে ভরাটের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রশাসনের অভিযানে তা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে নতুন করে মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারগুলো।
এ অবস্থায় পুনর্বাসন ও বসতভিটা নির্মাণের জন্য মানবিক বিবেচনায় তিস্তা নদী থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের তৈয়বখাঁ মৌজায় তিস্তা নদীর তীরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, গত বর্ষায় তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে পাঁচটি পরিবার সম্পূর্ণভাবে ভিটেমাটি ও বসতঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় ব্যক্তি ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় উপজেলার তৈয়বখাঁ বাজারসংলগ্ন এলাকায় তাদের বসবাসের জন্য কিছু জমির ব্যবস্থা করা হয়। তবে জমি নিচু হওয়ায় সেখানে ঘর নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, জমি ভরাটের জন্য আশপাশে পর্যাপ্ত মাটি না থাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পাশের তিস্তা নদী থেকে বালু এনে জমি ভরাটের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু নদী থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জানায়, মানবিক দিক বিবেচনা করে পুনরায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে বালু উত্তোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। পরে বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামিউর রহমান গত সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর ৩টার দিকে তৈয়বখাঁ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।
তাদের অভিযোগ, ড্রেজারের মালিক পরে ধ্বংস করা বালু উত্তোলনের সরঞ্জামের বাবদ ওই পাঁচ পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা বলেন, যেখানে আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, সেখানে আমরা কীভাবে তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেব?
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম রব্বানী বলেন, আমরা কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বালু তুলিনি। নদীভাঙনে নিঃস্ব পাঁচটি পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরির জন্যই জমি ভরাট করা হচ্ছিল। মানবিক দৃষ্টিতে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।
আরেক বাসিন্দা সরওয়ার বলেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অবৈধ বালু বিক্রির অভিযোগ তোলা হয়েছে। বাস্তবে উত্তোলিত বালু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বসতভিটা ভরাট ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার করা হয়নি।
আরেক বক্তা মাইদুল ইসলাম বলেন, আমরা সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছি। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ও বসতভিটা নির্মাণের সুযোগ দিলে পরিবারগুলো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে রয়েছেন-
রবিউল ইসলাম, আব্দুল খালেক, সোনভান ও মোকলেছুর রহমানসহ মোট পাঁচটি পরিবার।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা বলেন, তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে আমরা আমাদের ভিটেমাটি ও বসতঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় নতুন করে বসবাসের জন্য সামান্য জমি পেলেও তা নিচু হওয়ায় সেখানে ঘর নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। জমি ভরাটের জন্য আশপাশে মাটি না থাকায় তিস্তা নদী থেকে প্রয়োজনীয় বালু এনে ভরাটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের অভিযানে সেই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বালু উত্তোলন করতে চাই না; শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরি করতে চাই।
তারা আরও বলেন, মানবিক বিবেচনায় আমাদের বসতভিটা ভরাট ও পুনর্বাসনের জন্য প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করছি।
মানববন্ধন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত পুনর্বাসন, বসতভিটা নির্মাণের ব্যবস্থা এবং মানবিক বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানানো হয়।