
মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক : এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন ২ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে শুরু করতে চায় শিক্ষা বোর্ডগুলোর মোর্চা আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
এ জন্য কমিটির তরফে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম ধাপের আবেদন গ্রহণ, খাতা পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হওয়া পরীক্ষার্থীদের ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের সুযোগ দেওয়া এবং ভর্তি প্রক্রিয়া শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুর প্রস্তাব করা হয়েছে কমিটির তরফে।
শুরুতে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু এবং ভর্তি শেষে ১২ নভেম্বর ক্লাস শুরুর প্রস্তাব করে একাদশে ভর্তির খসড়া নীতিমালা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
তবে সময় বাঁচাতে এ প্রক্রিয়া কিছুটা এগিয়ে আনতে পরামর্শ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেই অনুযায়ী নতুন সূচি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
তিনি বৃহস্পতিবার বিকালে বলেন, “নতুন সূচি অনুযায়ী, ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপের আবেদন গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর এসএসসি ও সমমানের খাতা পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের প্রস্তাব করা হয়েছে।
“প্রথম ধাপে আবেদন করা পরীক্ষার্থী ভর্তির জন্য নির্বাচনের পর ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হওয়া পরীক্ষার্থীদের দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে। আর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ২০, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর কলেজে ভর্তি এবং ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশের ক্লাস শুরুর প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়া নীতিমালায়।”
ভর্তির প্রস্তাবিত নীতিমালা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর আবেদন গ্রহণ ও ক্লাস শুরুর তারিখ চূড়ান্ত হবে এবং এবার কয় ধাপে আবেদন গ্রহণ করা হবে তা মন্ত্রণালয় চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে বলে জানান অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান।
সাধারণত তিন ধাপে একাদশে ভর্তির আবেদন গ্রহণ করা হয়। সব আসন পূরণ না হওয়ায় চতুর্থ ধাপেও আবেদন গ্রহণের নজির আছে।
এবার শিক্ষাজীবনের সময় বাঁচাতে আবেদন গ্রহণের ধাপের সংখ্যা কমার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
বরাবরের মত এবারও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে বিভিন্ন কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। ভর্তি প্রক্রিয়া শেষে কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে সাড়ে ৭ লাখ আসন ফাঁকা থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ এবং আবেদনের পছন্দক্রম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের আসনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা ভর্তির জন্য নির্বাচিত হবেন।
গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বসেছিলেন ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। এর মধ্যে পাস করেছেন ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন পরীক্ষার্থী।
একাদশ শ্রেণিতে দেশের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে প্রায় ২৫ লাখ আসন আছে। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে কেন্দ্রীয়ভাবে এ ভর্তি প্রক্রিয়া চলবে। কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি প্রক্রিয়া চলবে আলাদা। সে হিসাবে এবার সাড়ে ৭ লাখ আসন ফাঁকা থাকতে পারে।