ইউরোপের আপত্তি উপেক্ষা করে জি-২০ সম্মেলনে পুতিনকে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক :  ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর জোরালো আপত্তি ও অসন্তোষ উপেক্ষা করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় আগামী ডিসেম্বরের জি২০ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মস্কোকে আবারও বৈশ্বিক কূটনৈতিক আলোচনার মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার কৌশলগত অংশ হিসেবেই ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

বুধবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। মার্কো রুবিও বলেন, “আমরা মনে করি, এটি কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গেই নয়, বরং বিশ্বনেতাদের সঙ্গেও রুশ প্রেসিডেন্টের সরাসরি আলোচনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে। আমরা আশা করছি, তিনি এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করবেন।” তবে রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন কিংবা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুতিনের অংশগ্রহণের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেয়নি।

পুতিন যদি এই সম্মেলনে যোগ দেন, তবে তা হবে ২০১৯ সালের পর জি২০ সম্মেলনে তাঁর প্রথম সশরীরে অংশগ্রহণ। একই সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রে পুতিনের দ্বিতীয় সফর। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে প্রেসিডেন্ট পুতিন সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছিলেন; তখন আলাস্কায় তাঁকে লালগালিচা সংবর্ধনা দিয়ে স্বাগত জানিয়েছিলেন ট্রাম্প, যদিও সেই বৈঠক ইউক্রেন সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি।

আমন্ত্রণের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বর্ষপূর্তির দিকে এগোচ্ছে এবং কিয়েভের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে মস্কো। ইউরোপীয় মিত্রদের তীব্র সমালোচনার জবাবে মার্কো রুবিও যুক্তি দেন যে কেবল সমমনোভাবাপন্ন মিত্রদের সঙ্গে কথা বলে বৈশ্বিক সংকটের সুরাহা সম্ভব নয়। বরং মতভেদ থাকা পক্ষগুলোকে একই আলোচনার টেবিলে এনেই স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজতে হয়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সামাল দিতে ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার জন্য চাপ দিয়ে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি মাসের শুরুতে দুই দেশের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে একটি সীমিত যুদ্ধবিরতির কথা ট্রাম্প দাবি করলেও বাস্তবে যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষ পরাশক্তি ও উদীয়মান অর্থনীতির সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক জোট ‘গ্রুপ অব টুয়েন্টি’ বা জি২০-এর বর্তমান সদস্য ১৯টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আফ্রিকান ইউনিয়ন। বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং বিশ্ব জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্বকারী এই প্রভাবশালী ফোরামের মঞ্চে ট্রাম্পের এই আমন্ত্রণের ফলে ইউক্রেন যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি নতুন মেরুকরণের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *