বুধবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ -muktinews24(তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, রেজি নং-৩৬)

সদ্য সংবাদ:

মহিমাগঞ্জ চিনিকল বন্ধ পীরগঞ্জে তৈরি হচ্ছে আখের গুড়

মহিমাগঞ্জ চিনিকল বন্ধ পীরগঞ্জে তৈরি হচ্ছে আখের গুড়

পীরগঞ্জ(রংপুর) প্রতিনিধিঃ রংপুরের মহিমাগঞ্জ চিনি কল বন্ধ, কবে নাগাদ চালু হবে কারোই জানা নেই। মেল কর্তৃপক্ষের গড়িমসির কারনে আখ চাষে কৃষকদের তিক্ততা দেখা দিয়েছ আখ অঞ্চলে। ৯০ এর দশকে কৃষকের একমাত্র জনপ্রিয় আবাদ ছিল এখানে আখ। সেই আখ এখন চোখে পড়ছে না। শুধু মাত্র গুড়ের প্রয়োজনে আবাদ করা হয়েছে আখ।
রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা অনেক জনপ্রিয় এই আখের চাষাবাদ, বর্তমানে এখানে আখ থেকে গুড় উৎপাদন করছে চাষিরা। গুড় উৎপাদনকারীরা কোমর বেঁধে লেগেছে আখমাড়াই কাজে। নিজেদের মেশিন দিয়ে আখ চিবিয়ে রস সংগ্রহ করে চুল্লীতে আগুন জ্বালিয়ে তৈরি করছে গুড়। গুড় তৈরি বা উৎপাদন কাজে চাষিদের নেই অলসতা।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে কথা হয় উপজেলার আখ চাষিদের সাথে অনেকেই বলছেন, অন্যান্য ফসলের চাষাবাদের পাশাপাশি আখ বা (কুসুর) এর চাষ করা হচ্ছে। জনপ্রিয় আখের গুড় এলাকার প্রতিটি ঘরে ঘরে প্রয়োজন হয়। আত্মীয়-স্বজনদের আপ্যায়ন করতে গুড় মাখানো খই মুড়ি এবং পিঠা ছাড়া খাওয়া দাওয়ার আমেজ হয় না এ অঞ্চলে। এতাছাড়াও আখের গুড় থেকে খিড়,পিঠা,পায়েস তৈরি করার কাজে প্রয়োজন হয়। আর নতুন মেহমান নিয়ে জমিয়ে খাওয়ার মজাটাই আলাদা এবং আনন্দের। নতুন আত্মীয়র স্বজনের বাড়িতে পিঠা এবং গুড় পাঠাতে হয়। এই জন্য সীমিত পরিসরে আখের চাষ করা হয়। বর্তমানে আখ চাষিদের জমি থেকে নগত টাকা দিয়ে কেনা-বেচা করা হচ্ছে আখ। গুড় ব্যবসায়ীরা জমি থেকে কিনে গাড়ি যোগে তাদের গুড় তৈরি মেল বা (গুড় মাড়াই কারখানায়) নিয়ে গিয়ে গুড় তৈরি করে।
মদনখালী এলাকার মোজাফফর আলী জানান, বৃহত্তর রংপুরে মহিমাগঞ্জ এবং শ্যামপুর সুগার মল স্থাপন করা হয়েছে। গত কয়েকবছর ধরে দুটি চিনিকল বন্ধ। মিল কর্তৃপক্ষের লোকজনের দেখা সারা মিলছেনা এলাকায়। তারপরও এলাকার চাষিরা বসে নেই। নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী আখ চাষ করে গুড় উৎপাদন করছে। আখ চাষে চিনির থেকে গুড় মাড়াই করে পুষিয়ে উঠছে কৃষক। জমি থেকে আড়াই শ টাকা দরে মন (কুসুর) বা আখ বিক্রি করছে চাষিরা। ব্যবসায়ীরা মাড়াই গুড় ৯০ থেকে ১ শত টাকা কেজিতে পাইকারি বাজারে বিক্রি করেছে গুড়।
গুড় উৎপাদনকারী লক্ষ্মী ঠাকুর দাস গ্রামের রুবেল মিয়ার সাথে তিনি বলেন, নিজেদের আবাদের আখ বা (কসুর) থেকে শুধু গুড় তৈরির জন্য আবাদ করা হয়। উপজেলার খালাশপীর অঞ্চলে এখন পর্যন্ত চাষিরা আখ চাষ ধরে রেখেছে। আর এলাকার মিষ্টি জাতীয় জনপ্রিয় খাবার গুড়। আমি নিজের আবাদের আখ থেকে গুড় তৈরি করি। নিজের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে থাকি। বছরের ৫ মাস এই গুড় মাড়াইয়ের কাজ চলে। আমার গাছে বা (গুড় মাড়াই কারখানায়) ৫ থেকে ৬ টি পরিবার কর্মকরে তাদের সংসার চলে।
বাবনপুর গ্রামের মোজাফফর বলেন, উপজেলার খালাশপীর এলাকায় প্রায় ১০/১২ স্থানে গুড় তৈরির মেল বা (গাছ) স্থাপন করা হচ্ছে। আখ চাষিরাও লাভবান হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরাও গুড় বিক্রি করে লাভের মুখ দেখছেন। নির্ভেজাল গুড় উৎপাদন কাজে এখানকার চাষি এবং ব্যবসায়ীগণ। ধীরে ধীরে এলাকায় গাছের সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক কারখানা চালু হবে বলে তিনি জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাদেকুজ্জামান সরকার জানান, এখানে প্রায় ৩২০ হেক্টর জমিতে আখের চাষ করা হয়েছে। চাষিরা নিজেদের গুড়ের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করছে গুড় বা আখ। ইক্ষু চাষে তেমন কোনো আগ্রহ নেই চাষিদের।

বিভাগ
শেয়ার করুন

মতামত লিখুন