জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় দেশের স্বার্থে ফুলবাড়ির কয়লা উত্তোলন

 

মুক্তিনিউজ২৪ ডেক্সঃ উত্তরাঞ্চলের কয়লা তথা ফুলবাড়ির কয়লা উত্তোলন করে দেশের স্বার্থে কাজে লাগানোর ব্যাপারে বর্তমান সরকার উদ্যোগী হয়েছে। এ ব্যাপারে সরকার স্থানীয়দের মতাতম নিয়ে তাদের ক্ষতিপূরণ প্রদান, পুনর্বাসন ও স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের মধ্য দিয়ে এগোতে চাচ্ছে বলে নানা সূত্রে জানা যায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে কয়লা তোলার আগে স্থানীয়দের পুনর্বাসনের কথা কিছুদিন আগে ঘোষণা করেন। পরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রধানমনন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দশকওয়ারী জ্বালানি উন্নয়ন পরিকল্পনা পেশ করা হয়েছে। এতেও কয়লা উত্তোলনের মাধ্যমে আরও বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে কয়লা সস্তায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ সরকারের উর্ধ্বতন মহল নানা সভা সমাবেশে ফুলবাড়িসহ দেশের কয়লা সম্পদের ব্যবহারের ওপর বার বার জোর দিচ্ছেন। সরকারের কর্মতৎপরতায় বোঝা যাচ্ছে ফুলবাড়ি, পার্বতীপুর, বিরামপুর ও নবাবগঞ্জের মাটির নিচে মজুদ কয়লা জ্বালানি সঙ্কট বিমোচনে এবং বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাওয়া রোধে উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।
এদিকে এসব তৎপরতার মুখে স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। চার উপজেলার কয়লা মজুদ এলাকায় যাদের জমি রয়েছে, তাদের অনেকে বরাবরের মতো নীরব। অনেকে এর পক্ষে আবার অনেকে উন্মুক্ত খনির বিরুদ্ধে অবস্থান ব্যক্ত করে যাচ্ছে। উন্নয়নকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক চাঞ্চল্য বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনায় স্থানীয় বেকারদের কর্মংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে স্থানীয় বহু যুবক খনির পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে। তারা সোস্যাল মিডিয়া নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন।
এদিকে বরাবরের মতো এবারও কয়লা উত্তোলন ইস্যুটি সামনে আসায় খনির বিরোধীপক্ষ ঢাকা, আশপাশের জেলা এবং স্থানীয়দের সমন্বয়ে জনগণকে সংগঠিত করার কাজ শুরু করেছে। উন্মুক্ত খনি হলে এলাকার প্রাণ প্রকৃতি ধ্বংস হয়ে যাবে এরকম বক্তব্যে দিয়ে ২০২৬ সালের অনুসরণে খনি প্রকল্প রুখে দেয়া হবে বলে বক্তব্য দেয়া হয়েছে। খনি উন্নয়নের বিরুদ্ধে চার উপজেলার মধ্যে ফুলবাড়িতে প্রকাশ্য সভা মিছিল হয়েছে। খনিবিরোধী জনমত তৈরির জন্য গ্রামে গ্রামেও মাইকিং করা হচ্ছে।
দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় জ্বালানির ৬০ ভাগই আমদানি নির্ভর হয়ে পড়েছে। ৭ হাজার মেগাওয়াটের বেশি কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদনে ২০ মিলিয়ন টনের বেশি কয়লা আমদানি করতে হচ্ছে। দ্রুত বিলীয়মান গ্যাস আর এর সরবরাহ সঙ্কটে বিদেশ থেকে বিপুল এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। দেশ ভুগেছে বিপুল লোডেশিং ও জ্বালানি সঙ্কটে। এলপিজি, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের তেল আমদানি তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে দেশের জ্বালানি খাতের নিরাপত্তা এক নাজুক পরিস্থিতির মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। এ প্রেক্ষিতে দেশে মজুদ ৫টি কয়লা খনিতে বিপুল পরিমাণ কয়লা উত্তোলন করে দেশের স্বার্থে ব্যবহার করার আর বিকল্প দেখছে না নীতিনির্ধারক মহল।
এ প্রেক্ষিতে খনির পক্ষ-বিপক্ষের মিশ্র প্রতিক্রিয়া উতরে কীভাবে ফুলবাড়ি, পার্বতীপুর, বিরামপুর, নবাবগঞ্জের মানুষের সঙ্গে সমঝোতা হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *